17/04/2026
প্রিয়, নাজিরুল
আসসালামু আলাইকুম। অনেকের মনের বিভ্রান্তি দূর করার জন্য কমিটির পক্ষ থেকে কিছু বিষয় স্পষ্ট করা প্রয়োজন মনে করছি।প্রথমত, আমাদের কমিটির লক্ষ্য ছিল এমন কিছু করা যা দীর্ঘস্থায়ী হয়। আমরা স্কুলের মসজিদে এবং ম্যামদের নামাজ পড়ার স্থানে উন্নতমানের কার্পেট, জুতা রাখার রেক এবং জায়নামাজসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী দিয়েছি, যাতে এটি 'সাদকা-ই-জারিয়া' হিসেবে দীর্ঘ সময় আমাদের সবার জন্য সওয়াব বয়ে আনে। ৫০০ টাকার বাজেটের মধ্যে এর চেয়ে সৃজনশীল ও কল্যাণকর আর কিছু হতে পারে কি না, তা নিয়ে আমরা অনেক ভেবেছি। একইভাবে ম্যামদের নামাজ পড়ার স্থানেও আমরা জায়নামাজ, কার্পেট ইত্যাদি দিয়ে আরও সুন্দর করে একটা মসজিদের মতো লুক দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এসএসসি কেন, এইচএসসি কিংবা অ্যাডমিশন—যে যেখানেই থাকুক না কেন, প্রত্যেকে এর সমান সওয়াব পাবে। দান হিসেবে সাদকায়ে জারিয়াহ-এর ভূমিকা অনেক।তুমি ১০০ জনকে খাবার আর বস্ত্র দিলেও দেখবে সে আবার অসহায়ের মতো হাত পাতবে। তাই ১০০ জনকে যাকাত না দিয়ে ১ জনকে স্বাবলম্বী করতে পারলে হাত পাতার সংখ্যা কমে আসবে।টিচারদের অসংখ্য ভালোবাসা এবং এরকম একটা চমৎকার সিদ্ধান্ত যে আমাদের কমিটির লোক নিতে পেরেছে, তার জন্য কমিটিকে ধন্যবাদ। ৫০০ টাকায় এর চেয়ে বেশি চাওয়াটাও অনুচিত। স্কুলে গিয়ে জিজ্ঞেস করো আমরা কি দিয়েছি এবং তারা খুশি কি না। এই গিফট দেওয়ার আইডিয়াটা ছিল সম্পূর্ণ ক্রিয়েটিভ।এখন আসি তোমার কথায়; শেষে কিছু সমস্যা হওয়ার কারণে টাকার স্বল্পতা দেখা দেয়। স্কুলের গিফটটাতেই বাজেটের চেয়ে একটু বেশি টাকা চলে যায়। তাই মিলাদ দেওয়ার মতো সামর্থ্য ছিল না। তবুও বাকি যা টাকা ছিল তা দান করা হয়েছে। (দুঃখিত, ছবি তুলে দেখাতে না পারায়)।এখানে অনেকে আছে যারা অনেক জায়গায় দান করেছে, নিজের অনেক আত্মীয়-অনাত্মীয়ের কাছে দোয়া নিয়েছে। অনেকের বাবা-মাও দান করেছেন তাদের সন্তানের মঙ্গল কামনা করার জন্য।আমার প্রশ্ন:• তুমি কোথায় ছিলে? তুমি কি নিজ দায়িত্বে আলাদাভাবে টাকা তুলতে পারোনি? নৌকা নদীতে ছেড়ে দিয়ে ফিরে আসার চিন্তা করাটা কি বোকামি না? যাই হোক, তোমার নিজের প্রচেষ্টাই বা কতটুকু ছিল?• কমিটির কার কাছে ঠিক তুমি বলেছ জানি না। আমরা কি ধরাছোঁয়ার বাইরে নাকি? নিহনকে তো জানাওই নাই, আমাকেও বলোনি। এই মোট ২ দিনে তুমি কী বলতে চাইছ? টাকাটা দিবে কিভাবে মানুষ? আর যদি কেউ মসজিদে গিয়ে দিয়েও আসে, তাহলে তোমার কাছে কেন জানালো না বুঝলাম না।• সকলেরই এলাকায় মসজিদ আছে। তুমি কিভাবে নিশ্চিত যে “৫০ টাকা মসজিদে দিলে কি তোমাদের সব টাকা শেষ হয়ে যেত?” কেউ যদি নিজের মসজিদে ৫০০ টাকা দেয় তখন?• আর “বিপিএটিসি মসজিদ”। এখানে টপ লেভেলের মানুষরা নামাজ পড়েন, সাথে আবাসিক এলাকার অফিসাররাও থাকেন। আমার মনে হয় না কোনো আউটসাইড লোকের টাকার জন্য সেখানকার কাজ থেমে থাকবে—যেখানে লেকের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ হয়।• আবার প্রিন্সিপাল স্যারও কিছু অনুদান উঠালেন অডিটোরিয়ামে।আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী দিয়েছি। তুমি যদি একটা উদ্যোগ নিতে, আমরা সকলেই ৫০ টাকা করে দিতেই পারতাম। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমাদেরকে পুরো এক আলাদা শ্রেণিতে ফেলার কোনো মানে হয় না।তারপরেও তোমার কথাকে সাধুবাদ জানাই। আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেদায়েত দান করুন। (আমিন)
তোমার মঙ্গল কামনায়,
তোমার বন্ধুগণ