🕯️
💌
— চিঠিটা খুলতে ক্লিক করো —
২৬ মার্চ, ২০২৬
প্রিয় বেষ্ট ফ্রেন্ড 🫶,
কালকের না বলা কথাটা একটা চিঠির মাধ্যমে লিখলে মন্দ হয় না। কী বলিস? তোর সব সময় মনে হয় যে আমি কথা খুব গুছিয়ে বলতে পারি। এ কথাটা বেশ খানিকটা সত্যি বটে কিন্তু আমার মনে হয় তা পর্যাপ্ত না। তাই লিখেই আমার মনের আইডিয়াটা প্রকাশ করছি। আর কিছু গুরুত্বপূর্ণ জিনিস লিখে পাঠানোই শ্রেয়। তাই আমার হাজার আলসেমি সত্ত্বেও তোকে লিখলাম। এবার চেষ্টা করব শুদ্ধ বানান লিখতে। আর হ্যাঁ, চিঠিটা পুরোটা একবার পড়ার আগে কোন মন্তব্য না করার জন্য অনুরোধ রইলো। যাক অনেক হয়েছে বকবক, এবার কাজের কথায় আসি।আমি জানি তুই ইদানীং নিজের ভেতর এক ধরণের যুদ্ধ করছিস। একদিকে তোর গভীর আবেগি মন, আর অন্যদিকে তোর সেই ইচ্ছাটা, যেখানে তুই নিজেকে একজন যুক্তিনির্ভর এবং সফল মানুষ হিসেবে দেখতে চাস। সারাদিন গান শোনা বা রিলস দেখে সময় কাটানোটা আসলে কোনো অ্যাডিকশন না, এটা তোর মেধাবী মস্তিষ্কের একটা "এসকেপ রুট" (escape route)। কারণ তুই হয়তো তোর যোগ্য কোনো চ্যালেঞ্জ খুঁজে পাচ্ছিস না।​তোর এই যে আবেগপ্রবণতা, এটাই আসলে তোর সবচেয়ে বড় শক্তি, যদি তুই এটাকে সঠিক জায়গায় ইনভেস্ট করতে পারিস। কারণ আবেগ ছাড়া কোনো বড় বিজনেস বা আইডিয়া সফল হয় না। কিন্তু সমস্যা হলো, আবেগ যখন নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে যায়, তখন সেটা মানুষকে স্থবির করে দেয়।​আমার মাথায় একটা বিজনেস আইডিয়া আছে যা নিয়ে আমি অনেকদিন ধরে ভাবছি। কিন্তু সত্যি বলতে, আমার হাতে এখন সময়ের অভাব। আমি যখনই এটা নিয়ে ভাবি, আমার তোর কথা মনে পড়ে। কেন যেন মনে হয়, এই আইডিয়াটার যে রিসার্চ দরকার, সেটা তোর চেয়ে ভালো আর কেউ করতে পারবে না। কারণ তুই যুক্তি এবং তথ্য দুইটাকে খুব ভালোভাবে বুঝিস। কিন্তু সমস্যাটা হচ্ছে আবেগি মনের কারনে সেই যুক্তি আর তথ্যকে পারফেক্টলি কাজে লাগাতে পারিস না। তবে তোর মধ্যে আমি যে গুনটা দেখেছি সেটা খুব কম মানুষের মধ্যেই আমি লক্ষ্য করেছি। এই গুনটা হল সত্যি মিথ্যার পার্থক্য যুক্তির মাধ্যমে যাচাই করা। হয়তো প্রথমদিকে তুই সেটা করিস না কেউ একজন সুন্দর করে বুঝালে সেটা তুই বুঝতে পারিস। আমি বেশিরভাগ মানুষের মধ্যেই সেই গুনটা পাইনি। তবে তোর যে জিনিসটা সবচেয়ে বেশি মাথা রাখতে হবে সেটা হচ্ছে, কোন মানুষের কথা প্রপারলি লজিক্যাল থিঙ্কিং করেই বিশ্বাস করা উচিত। এবার কাজের কথায় আসি।​আমি চাই তুই এই বিজনেস এর মাস্টারমাইন্ড হিসেবে কাজ কর। তোর কাজ হবে এই বিজনেসের খুঁটিনাটি সবকিছু নিয়ে রিসার্চ করা। এর মার্কেট, এর ফিউচার, এর দুর্বলতা, মানে এভরিথিং। এটা করলে তোর দুইটা বড় লাভ হবে:১. তুই গান আর আলসেমির সেই লুপ থেকে বের হয়ে নিজের মস্তিষ্কের লজিক্যাল সাইডটাকে শার্প করার একটা রিয়েল-লাইফ ল্যাবরেটরি পাবি।২. ভবিষ্যতে এই রিসার্চ এবং রিসার্চ করার অভিজ্ঞতা তোকে অন্য সবার থেকে অনেক এগিয়ে রাখবে।বর্তমানে রিসার্চ করার জন্য ইউটিউব, AI আর google এর মত ফ্রি টুলস এর জুড়ি মেলা ভার। তাই এই টুলস গুলো দিয়ে তুই ইজিলি রিসার্চ করতে পারবি। এখন তোর মনে প্রশ্ন আসতেই পারে যে কি নিয়ে একচুয়ালি বিজনেস টা হবে সেটাই তোকে বলিনি। আমি চাচ্ছি আপাতত তুই একটা জেনারেল বিজনেসের বেসিক থেকে এডভান্স পুরোপুরি আয়ত্ত্ব কর। তোর ইন্টারেস্ট আর প্রগ্রেস দেখে আমি তোকে মেইন বিজনেস আইডিয়াটা বলব।​আমি তোকে শুধু একটা টাস্ক দিচ্ছি না, বরং এটা একটা ‘অপারচুনিটি’ যা তোর নিজের লজিক্যাল সত্তাকে প্রমাণ করার একটা মাধ্যম বলতে পারিস। তোর মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে যে, এই রিসার্চের সাথে নিজের লজিক্যাল সত্তাকে প্রমাণ করার যোগ সূত্র কি। সেই উত্তরে আমি বলব যে যোগসূত্র টা হল, তোর ব্রেন কে কোন একটা ক্রিয়েটিভ কাজের মধ্যে ব্যস্ত রাখার মাধ্যমে Brain Roat / Escape route থেকে রক্ষা করা আর ফিউচারে বেনিফিটেড হওয়া। কিছুটা এক ধিলে দুই পাখি মারার মত। You just have to trust the process, that's it.তুই যদি আমাকে এই রিসার্চগুলোতে হেল্প করিস, তবে আমরা দুজনেই জিতব। ​ভেবে দেখিস, স্রোতে গা ভাসিয়ে দেওয়া তো সবাই পারে, কিন্তু স্রোত নিয়ন্ত্রণ করতে পারে কেবল তারাই যারা সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়। তুই কি তৈরি নিজের সেই লজিক্যাল ভার্সনটার সাথে পরিচিত হতে?
তোমার মঙ্গল কামনায়,
ইতি, তোর বেষ্ট ফ্রেন্ড 🫶