১০ জিলহজ্জ ১৪৪৭ হিজরি
প্রিয় মুমিন
আসসালামু আলাইকুম।আশা করি আপনি এবং আপনার পরিবার আল্লাহর রহমতে ভালো আছেন। পবিত্র কুরবানির ঈদ উপলক্ষে আপনাকে ও আপনার পরিবারের সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক।কুরবানি শুধু পশু জবাই করার নাম নয়, বরং এটি আল্লাহর প্রতি আনুগত্য, ত্যাগ ও আত্মসমর্পণের এক মহান শিক্ষা। হযরত ইবরাহিম (আ.) আল্লাহর আদেশ পালন করার জন্য নিজের সবচেয়ে প্রিয় জিনিস ত্যাগ করতে প্রস্তুত হয়েছিলেন। সেই শিক্ষাই আমাদের কুরবানির মাধ্যমে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের ইচ্ছা, অহংকার ও লোভ ত্যাগ করাই প্রকৃত কুরবানির মর্মকথা।আল্লাহ তা'আলা বলেন — "আল্লাহর কাছে কুরবানির গোশত বা রক্ত পৌঁছায় না, বরং তোমাদের তাকওয়াই পৌঁছায়।" (সূরা হজ্জ: ৩৭)কুরবানির মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর ভালোবাসায় নিজের প্রিয় সম্পদ উৎসর্গ করা, নফসের কামনাকে দমন করা এবং প্রতিটি মুহূর্তে আল্লাহর আদেশের কাছে মাথা নত করার মানসিকতা তৈরি করা।কুরবানির অনেক ফজিলত রয়েছে। এটি আল্লাহর নিকট অত্যন্ত প্রিয় একটি ইবাদত। কুরবানির মাধ্যমে মানুষের অন্তরে তাকওয়া বৃদ্ধি পায় এবং গরিব-দুঃখীদের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করার সুযোগ তৈরি হয়। কুরবানির গোশত আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণ করলে সমাজে ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়। আল্লাহ তাআলা কুরবানির পশুর রক্তের আগে মানুষের আন্তরিকতা ও তাকওয়াকে গ্রহণ করেন।তাই আসুন, আমরা সবাই এই ঈদে শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ত্যাগ, সহানুভূতি ও মানবতার শিক্ষাকে হৃদয়ে ধারণ করি। আল্লাহ যেন আমাদের কুরবানি কবুল করেন এবং আমাদের জীবনকে শান্তি ও বরকতে ভরে দেন।আবারও আপনাকে ও আপনার পরিবারকে জানাইঈদ মোবারক।