আজ সন্ধ্যায় আকাশের দিকে তাকিয়ে মনে হলো, দিনগুলো আসলে চলে যায় না—তারা আমাদের জীবন থেকে নিঃশব্দে নিজেদের অংশটুকু নিয়ে বিদায় নেয়,
আর বিনিময়ে রেখে যায় কিছু স্মৃতি,
কিছু দীর্ঘশ্বাস, আর কিছু প্রতীক্ষার আলো।
দূরে থাকার এই সময়টুকুতে আমি বুঝেছি,
মানুষের হৃদয় বড় আশ্চর্য এক স্থান।
হাজার ব্যস্ততা, অগণিত মুখ, অসংখ্য পথের ভিড়ের মাঝেও সে একজন মানুষের জন্য আলাদা একটি জানালা খুলে রাখে।
সেই জানালার ওপাশে আজও তুমি দাঁড়িয়ে আছো—একই রকম পরিচিত, একই রকম আপন, একই রকম প্রতীক্ষিত।
আজকের দিনটিও ধীরে ধীরে
তার শেষ পঙ্ক্তিতে এসে পৌঁছেছে।
অস্তগামী সূর্যের মতো সে-ও বিদায় নিচ্ছে,
কিন্তু বিদায়ের আগে আমার হাতে একটি ছোট্ট সংবাদ তুলে দিয়ে যাচ্ছে—তোমার কাছে ফেরার পথটি আজ আরও একটু সংক্ষিপ্ত হলো।
মাঝে মাঝে মনে হয়,
সময় যেন এক বৃদ্ধ মাঝি।
সে নীরবে আমাদের নৌকাটিকে বেয়ে নিয়ে চলেছে পুনর্মিলনের তীরের দিকে।
আমরা হয়তো ঢেউ দেখি, অপেক্ষা দেখি, দীর্ঘ রাত দেখি;
কিন্তু সে জানে,
কোন ভোরে গিয়ে এই যাত্রার সমাপ্তি ঘটবে।
তাই আজকের এই নীরব রাতে আমি আর দূরত্বের কথা ভাবছি না।
আমি ভাবছি সেই দিনটির কথা,
যেদিন এই প্রতীক্ষা শুধু স্মৃতি হয়ে থাকবে।
যেদিন ক্যালেন্ডারের সংখ্যা গোনার প্রয়োজন হবে না। যেদিন তোমাকে আর কল্পনায় নয়,
চোখের সামনে দেখতে পাব।
ততদিন পর্যন্ত প্রতিটি সূর্যাস্ত আমার কাছে
একটি মধুর সংবাদ।
কারণ প্রতিটি ফুরিয়ে যাওয়া দিন,
প্রতিটি নিভে যাওয়া আলো,
প্রতিটি পার হয়ে যাওয়া প্রহর নীরবে বলে যায়—
“অপেক্ষা কমছে, পথ ছোট হচ্ছে, আর দেখা হওয়ার দিনটি ধীরে ধীরে দিগন্ত থেকে এগিয়ে আসছে।”