22 মে, 2026
প্রিয়, তমা বেগম
তুমি জানো, আমরা ১৭ই মার্চ ২০২৩ থেকে একসঙ্গে। সেই দিন থেকে আজ পর্যন্ত অনেক কিছু বদলে গেছে। বদলেছি আমি, বদলেছো তুমি, বদলেছে আমাদের ভালোবাসার রঙ। কিন্তু মাঝখানে একটা ভাঙন এসেছিল। সেটা আমাদের ‘ব্রেকআপ’। শব্দটা এখনো গলায় কাঁটা হয়ে আটকে থাকে।তোমাকে একটা কথা বলি—তোমার করা সব কষ্ট আমি মাফ করে দিয়েছি। তোমার করা ‘খারাপ ব্যবহার’, কথা, অবহেলা সব মাফ। কিন্তু মনের ভিতরে একটা জায়গা আছে, যেখানে ওই কষ্টের দাগ এখনো রয়ে গেছে। তুমি যতবার কাছে এসে বলো “আমি ভুল করেছি”, ততবার আমি নিজেকে জোর করে বলি “ঠিক আছে, ভুলে যাই”। কিন্তু ভোলা যায় না, জানো? যেদিন আমি একদম অসময়ে ছিলাম, পাশে কেউ ছিল না—সেদিন তুমি ফেসবুকে একটা পোস্ট দিয়েছিলে। ঠিক সেই পোস্টের ক্যাপশনটা এখনো মনে আছে: “কিছু মানুষ আমার সামনে আগুনে পুড়ে মরলেও আমার একটু খারাপ লাগবে না।”সেদিন আমার পৃথিবী থমকে গিয়েছিল। তুমি কি জানতে, ওই কথাগুলো কেমন শব্দ করে আমার বুকে বিদ্ধ হয়েছিল? আমি সেই রাতে ‘অভিমান’ গানটা বারবার শুনেছিলাম। গানটার সুর এখনো শুনলে আমার গা শিউরে ওঠে।আমাদের ব্রেকআপের পর তোমার খালাতো ভাইয়ের সঙ্গে তুমি হাত ধরে ঘুরতে গেলে। ভিডিও করলে। সেটা দেখে আমার ভেতর যে জ্বালা হয়েছিল, সেটা হিংসে ছিল না, অপমান ছিল। তুমি আমাকে ‘জেলাস’ করানোর জন্য ওটা করেছিলে, আমি জানি। কিন্তু প্রেমের সম্পর্কের মাঝে জেলাসি কোনো খেলা নয়, তুমি না হয় জানোই।তবুও কেন যে তোমাকে এখনো এত ভালোবাসি, বলতে পারব না। ব্রেকআপের পর যখন ফের ‘মিউচুয়াল’ হলো, তখন আমার ভালোবাসা আরও বেড়ে গেছে। অদ্ভুত, তাই না? যে মানুষটা আমাকে কাঁদিয়েছে, সেই মানুষটার জন্য আমার চোখ এখনো ভিজে ওঠে। তুমি এখন নরসিংদী, আমি টাঙ্গাইল। দূরত্বটা শুধু মাপের নয় মনেরও।আমার ভেতরে এখন কতো টানাপোড়েন। পরিবারের টেনশন, ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা, নিজের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে শঙ্কা। এত চাপের মাঝে মনে হয়, আমি যদি সঠিকভাবে ভালোবাসাও দিতে চাই, দিতে পারছি না। আমার মন আমাকে বাধা দেয়। যেন বলতে চায়, “আগে নিজের ঠিক হও, তারপর অন্যকে ভালোবাসা দিও।”তাই আমি ‘ব্রেকআপ’ করিনি, আমি শুধু ‘ব্রেক’ নিয়েছি। বুঝলে? আমি তোমাকে ছেড়ে যাইনি। আমি শুধু নিজেকে সারিয়ে তুলতে দূরে চলে এসেছি। কারণ আমি যদি নিজেই ভাঙা থাকি, তাহলে তোমাকে কী দিয়ে ভালোবাসাবো? তুমি আমাকে যে ভালোবাসা দিয়েছো, তার যোগ্য হতে চাই।আমার ভেতরে এখনো সেই ২১শে এপ্রিলের সকালটা বেঁচে আছে। যেদিন প্রথম তোমার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। বাস থেকে নেমে দেখি—তুমি দাঁড়িয়ে আছো। বাসের ভেতর থেকে আমার বুক দুরু দুরু করছিল। সেই মুহূর্তটা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে এক্সাইটেড ও স্পেশাল মুহূর্ত। আমি চাই, ফিরে পেতে ওই মুখ। ওই হাসি। ওই শুভ্রতা।কিন্তু তার আগে দরকার আমার সুস্থ হওয়া। আমার মাথার ভেতর যে হাজারো তারে জড়িয়ে গেছে, সেগুলো খোলা দরকার। তুমি কি একটু সময় দেবে? আমি তোমার কাছে শুধু এইটুকু চাই আমাকে ভুলে যেও না। আমি ফিরে আসব। আমার মন যখন বলবে “এখন সময় এসেছে”, তখন আমি আবার দৌড়ে আসব তোমার কাছে।আমি তোমায় চেয়েও রেখেছি, তবু দূরে সরে যেতে হচ্ছে। এটা আমার কাছে খুব অন্যায় লাগে। কিন্তু আমি বুঝেছি, ভালোবাসা মানে সব সময় কাছে থাকা না। কখনো কখনো ভালোবাসা মানে দূর থেকে সারিয়ে তোলা নিজেকে, যাতে ফিরে গিয়ে আর কখনো আঘাত না দিয়ে শুধু আদর দিয়ে আসা যায়।আজ এখানেই শেষ করছি। চিঠি শেষ করছি কিন্তু ভালোবাসা শেষ করছি না। তোমার দেওয়া প্রতিটা ব্যথা, প্রতিটা অভিমান, প্রতিটা সুখ সব আমার পকেটে ভরে রেখেছি। তুমি আমায় ছেড়ে দিও না, প্লিজ। আর আমি নিজেও নিজেকে ছাড়ব না। যদি দোয়া করো, হয়ত সব ঠিক হয়ে যাবে একদিন।