১১ জুন, ২০২৬

হে আমার সকল প্রতীক্ষার শেষ প্রহর,

আজ বিকেলের দিকে হঠাৎ এক ঝাঁক পাখিকে আকাশ পেরিয়ে দূরে চলে যেতে দেখলাম।

তাদের দেখে মনে হলো,

পৃথিবীর প্রতিটি যাত্রারই একটি গন্তব্য থাকে।

কেউ জানে, কেউ জানে না;

তবু পথচলা থেমে থাকে না।

মানুষের হৃদয়ও বোধহয় তেমনই—সে সবসময় তার আপন ঠিকানার দিকেই ফিরে যেতে চায়।

দূরে থাকার এই দিনগুলোতে আমি প্রায়ই ভাবি, সময়েরও নিশ্চয় একটি হৃদয় আছে।

না হলে সে এত ধৈর্যের সঙ্গে প্রতিটি প্রহরকে

একে একে সরিয়ে দেয় কীভাবে?

আমরা হয়তো বুঝতে পারি না,

কিন্তু অদৃশ্য কোনো কারিগরের মতো সে প্রতিদিন আমাদের মাঝখানে জমে থাকা দূরত্বের প্রাচীরে ছোট ছোট ফাটল ধরিয়ে চলেছে।

আজ সন্ধ্যার আকাশটা ছিল অদ্ভুত রকমের ফিকে।

যেন দিনের শেষ আলোটুকুও বিদায় নিতে গিয়ে

একটু থমকে দাঁড়িয়েছিল।

সেই দৃশ্যের দিকে তাকিয়ে মনে হলো,

কিছু অপেক্ষা এত সুন্দর যে,

তারা শেষ হওয়ার আগেই মানুষকে বদলে দেয়।

তোমার জন্য আমার অপেক্ষাটাও তেমন।

এটি আমাকে ধৈর্য শিখিয়েছে, নীরবতার ভাষা শিখিয়েছে, আর শিখিয়েছে—ভালোবাসা কখনো শুধু উপস্থিতির নাম নয়।

আজকের দিনটি তার সমস্ত মুহূর্ত নিয়ে অতীতের সিন্দুকে জমা পড়ে গেল।

সকালের আলো, দুপুরের ব্যস্ততা, বিকেলের ক্লান্তি—সবকিছু এখন স্মৃতি।

কিন্তু এই ফুরিয়ে যাওয়ার মাঝেও

একটি অপূর্ব সান্ত্বনা আছে।

কারণ প্রতিটি হারিয়ে যাওয়া দিন আসলে আমাকে কিছু ফিরিয়ে দেয়—তোমার কাছে ফেরার পথের আরও একটি কমে যাওয়া অপেক্ষা।

আমি জানি না ঠিক কোন দিনে এই দূরত্বের

শেষ পৃষ্ঠা উল্টে যাবে।

জানি না কোন সকালে ঘুম ভেঙে মনে হবে,

আর গুনতে হবে না কোনো দিন।

তবে এটুকু জানি, আজকের এই দিনটি সেই অনিবার্য মিলনের দিকে আরেকটি নীরব পদক্ষেপ রেখে গেল।

তাই রাত যতই গভীর হোক,

মন খারাপ কোরো না।

কারণ সময় আমাদের থেকে কিছু কেড়ে নিচ্ছে না;

বরং প্রতিটি ফুরিয়ে যাওয়া দিনের বিনিময়ে আমাদের পুনর্মিলনের দিনটিকে আরও কাছে এনে দিচ্ছে।

ইতি, তোমার কাছে ফেরার পথের ধুলো মেখে চলা এক নীরব যাত্রী। 🌙🍂🖋️✨
হুমায়ন আহমেদ