আজকের দিনটিও সময়ের বিস্তীর্ণ মহাকাব্য থেকে নিঃশব্দে একটি পৃষ্ঠা খুলে নিয়ে অস্তরাগের আগুনে বিলীন হয়ে গেল।
সন্ধ্যার শেষ আলো যখন আকাশের কপাল থেকে ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছিল,
তখন মনে হলো—সময় বোধহয় কোনো অদৃশ্য কবি;
সে কথা বলে না,
তবু প্রতিটি ক্ষণকে এক একটি
উক্তিতে রূপ দিয়ে যায়।
এই দূরত্বের দিনগুলোতে আমি একটি অদ্ভুত অভ্যাস রপ্ত করেছি।
আমি আর দিন গুনি না;
আমি গুনি ফুরিয়ে যাওয়া দিনগুলোর স্মৃতি।
কারণ প্রতিটি বিদায় নেওয়া দিন আমার কাছে শুধু সময়ের ক্ষয় নয়,
তোমার দিকে এগিয়ে যাওয়া পথের আরেকটি মাইলফলক।
জানো,
অপেক্ষা কখনো কখনো শরতের আকাশের মতো।
বাইরে থেকে শান্ত, নির্মল, স্থির;
অথচ তার গভীরে জমে থাকে অগণিত
অপ্রকাশিত মেঘের গল্প।
আমার হৃদয়েও তেমনি জমে আছে
অনেক না-বলা কথা,
অনেক অসমাপ্ত বাক্য,
অনেক সঞ্চিত নীরবতা—যেগুলো একদিন তোমার সামনে বসে উচ্চারণ করব।
আজ তারা শুধু নিঃশব্দে তোমার নামের চারপাশে প্রদক্ষিণ করে।
সন্ধ্যার বাতাসে যখন কোনো
অচেনা ফুলের গন্ধ ভেসে আসে,
কিংবা রাতের আকাশে কোনো একলা
তারা দীর্ঘক্ষণ জেগে থাকে,
তখন মনে হয়—পৃথিবীর সব সুন্দর জিনিসেরই একটি করে অপেক্ষা আছে।
নদী যেমন সাগরের জন্য অপেক্ষা করে,
ভোর যেমন সূর্যের জন্য,
তেমনি আমার প্রতিটি দিন অপেক্ষা করে
সেই মুহূর্তটির জন্য,
যখন দীর্ঘ বিচ্ছেদের এই অধ্যায় শেষ হবে এবং তোমার চোখের দিকে তাকিয়ে আবার নিজেকে সম্পূর্ণ মনে হবে।
আজও একটি দিন শেষ হলো।
পৃথিবীর কাছে এটি হয়তো কেবল একটি সাধারণ তারিখের অবসান।
কিন্তু আমার কাছে এটি এক নিভৃত উৎসব।
কারণ আজ আমাদের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা দূরত্বের বৃক্ষ থেকে আরেকটি শুকনো পাতা ঝরে গেল।
আজ তোমার কাছে ফিরে আসার পথটি গতকালের চেয়ে আরও একদিন ছোট হয়ে গেল।
তাই রাত যতই গভীর হোক,
মন খারাপ কোরো না।
প্রতিটি নিভে যাওয়া সন্ধ্যা,
প্রতিটি পেরিয়ে যাওয়া প্রহর,
প্রতিটি ক্যালেন্ডারের বদলে যাওয়া সংখ্যা নীরবে একই সংবাদ বহন করে—
“আমরা দূরে সরে যাচ্ছি না,
আমরা ধীরে ধীরে একে অপরের দিকে এগিয়ে আসছি।”