৯ জুন, ২০২৬

হে আমার জীবন-নদীর শান্ত তীর,

আজ ভোরের আগে ঘুম ভেঙে গিয়েছিল।

চারপাশ তখনও অন্ধকারে ঢাকা,

অথচ দূরের আকাশে আলো ফোটার প্রস্তুতি চলছিল। সেই মুহূর্তে মনে হলো,

অপেক্ষাও বোধহয় এমনই—বাইরে থেকে দীর্ঘ ও নিঃসঙ্গ মনে হলেও,

তার গভীরে অদৃশ্যভাবে জন্ম নিতে থাকে মিলনের ভোর।

জানো, কিছু কিছু অনুভূতি আছে যেগুলোকে শব্দে সম্পূর্ণ ধরা যায় না।

যেমন কোনো পুরোনো বইয়ের পাতায়

আটকে থাকা গন্ধ,

কিংবা বহুদিন পর শোনা কোনো পরিচিত সুর।

তোমার প্রতি আমার টান টাও তেমন।

প্রতিদিন তাকে নতুন করে ব্যাখ্যা করতে পারি না,

কিন্তু প্রতিদিনই তাকে আরও গভীরভাবে অনুভব করি।

আজ সারাদিনের ব্যস্ততার মাঝেও হঠাৎ মনে হলো, আমরা আসলে সময়ের দুই প্রান্তে দাঁড়িয়ে নেই;

বরং একই সেতুর দুই দিক থেকে ধীরে ধীরে একে অপরের দিকে হাঁটছি।

তোমার দিকে এগিয়ে যাওয়া আমার পদক্ষেপগুলো হয়তো চোখে দেখা যায় না,

কিন্তু প্রতিটি ফুরিয়ে যাওয়া দিন তার সাক্ষী হয়ে থাকে।

বিকেলের শেষ আলো জানালার কাঁচে এসে পড়েছিল। সেই আলোটুকু দেখে মনে হলো,

সূর্য ডোবার আগে পৃথিবীর জন্য যেমন একমুঠো সোনালি স্মৃতি রেখে যায়,

তেমনি আজকের দিনটিও বিদায়ের আগে আমার হাতে একটি ছোট্ট আশ্বাস রেখে গেল—

আমাদের মাঝখানে থাকা দূরত্ব আজ আরেকটু ক্ষয় হলো।

হয়তো এই পরিবর্তন চোখে পড়ার মতো নয়,

কিন্তু নদীও তো একদিনে সাগরে পৌঁছায় না।

তবু প্রতিটি ঢেউ তাকে তার গন্তব্যের দিকে নিয়ে যায়। আমার প্রতিটি দিনও ঠিক তেমন—নীরবে, ধীরে, কিন্তু অবিরামভাবে তোমার দিকেই বয়ে চলেছে।

তাই আজকের রাতটিকে আমি বিদায় নয়,

অগ্রগতির আরেকটি চিহ্ন হিসেবে দেখছি।

কারণ ক্যালেন্ডারের একটি সংখ্যা কমে যাওয়া মানে শুধু সময়ের অতিক্রম নয়;

কখনো কখনো তা প্রিয় মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়ার পথেরও সংক্ষিপ্ত হয়ে আসা।

ইতি, তোমার কাছে পৌঁছানোর অদৃশ্য সেতুতে প্রতিদিন এক কদম এগিয়ে চলা মানুষটি। 🌙🖋️🍃
হুমায়ন আহমেদ